আবদুর রশিদ, নাইক্ষ্যংছড়ি:
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সদর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের পুরাতন স্টেশন এলাকায় ছাগল চরানোকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে চারজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। রোববার (৫ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে অবসরপ্রাপ্ত কৃষি বিভাগের নিরাপত্তাকর্মী মো. গোলাম মওলার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন— মো. গোলাম মওলা (৬১), তার ছেলে কামরুল হাসান, পুত্রবধূ মুন্নী বেগম এবং ফরিদা আক্তার। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার সময় পার্শ্ববর্তী বাড়ির কয়েকটি ছাগল গোলাম মওলার বাড়ির আঙিনায় ঢুকে পড়ে। এ সময় তার ছেলে কামরুল হাসান ছাগলগুলো সরিয়ে নিতে বললে প্রতিবেশী হাসান, রহমত উল্লাহ, সালামত উল্লাহ ও ইয়াসমিন আক্তার ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে তারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালিয়ে গোলাম মওলা, কামরুল হাসান, মুন্নী বেগম ও ফরিদা আক্তারকে এলোপাতাড়ি মারধর ও কুপিয়ে আহত করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
আহতদের চিৎকার শুনে স্থানীয় বাসিন্দা হাবিবুর রহমানসহ আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এসে তাদের উদ্ধার করেন। পরে চিকিৎসার জন্য তাদের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী হাবিবুর রহমান জানান, চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি আহতদের রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাদের হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে হাসান, রহমত উল্লাহ, সালামত উল্লাহ ও ইয়াসমিন আক্তারের নাম উল্লেখ করেছেন আহত পরিবারের সদস্যরা।
এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক বলেন, “ঘটনার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় সাময়িক উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
